গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা সোহেলী নাজনীন: জন্ম নিবন্ধন শাখায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দৃঢ় অবস্থান।
ভোরের পাতার বিভ্রান্তিকর সংবাদে হতাশার প্রকাশ,আনলেন স্পষ্ট প্রতিবাদ।
গাজীপুর জেলা বিশেষ প্রতিনিধি
মোঃ আদনান হাসান (টিটু)।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা সোহেলী নাজনীন জন্ম নিবন্ধন শাখাকে ঘিরে ভোরের পাতার অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত একটি সংবাদকে “অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দালালচক্রের প্রভাবিত প্রচারণা” বলে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিবন্ধন শাখায় সক্রিয় কিছু স্বার্থান্বেষী দালালচক্র সেবাকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং কর্মকর্তা–কর্মচারীদের হয়রানির মাধ্যমে অরাজক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে।
সোহেলী নাজনীন বলেন,
প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জহিরুল ইসলাম ও মোঃ বাতেন সাহেবের এর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সঠিক পরিচালনা করে আসছেন।
সোহেলী নাজনীন বলেন লোভ থাকলে দীর্ঘ ১৭ বছর পৌর পাঠাগারে সেবা দিতে পারতাম না, চলে আসতাম। টঙ্গী কলেজ অফিসে ১৫ আগষ্ট পাঠাগার নিয়ে নেই। তখন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে আমাকে এখানে নিযুক্ত করেন। যেসব স্বার্থান্বেষী লোভী দালান বা আজ স্বার্থ সিদ্ধি ফুরতে পারছেনা। তারাই আজ মেলে উঠেছে। আমি সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
“আমি জন্ম নিবন্ধন শাখায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে সেবা দিয়ে আসছি। কোন ব্যক্তি, দালাল বা অসাধু চক্রের অবৈধ সুবিধা নিশ্চিত করি না—এ কারণেই তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ভোরের পাতার প্রতিবেদনে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
তিনি আরও জানান, শিশুসহ সকল বয়সের নাগরিক জন্ম নিবন্ধন করতে এলে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে নিবন্ধন দেওয়া হয়। “কোনো ধরনের ঘুষ, উপঢৌকন বা অবৈধ সুবিধা নেওয়া হয় না—এ অভিযোগ প্রমাণ করা গেলে কর্তৃপক্ষ যে শাস্তি দিবে আমি তা মাথা পেতে নেব,” বলেন তিনি।
দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
প্রসঙ্গত, জন্ম নিবন্ধন শাখায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু দালালচক্র সাধারণ মানুষের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে আসছে। সোহেলী নাজনীন অভিযোগ করেন,
“এই চক্রগুলো বহু বছর ধরে শাখাটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। যেহেতু আমি কোন অবৈধ সুবিধা দিই না, তারা ক্ষুব্ধ হয়ে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন,
“এই শাখায় এসে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করতে চান না, কারণ দালাল চক্রের চাপে কখনও সম্মানহানি হতে পারে—এমন ধারণা রয়েছে। আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, জন্ম নিবন্ধন শাখাকে কোন মিথ্যা কাগজ বা অসাধু উদ্দেশ্যের কাছে বিক্রি হতে দেব না।”
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান।
ভোরের পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে সোহেলী নাজনীন বলেন,
“যে সাংবাদিক বা গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছেন তারা যদি নির্ভুল তথ্য যাচাই করতেন, তাহলে এ ধরনের অপপ্রচারের জন্ম হতো না। সাংবাদিকতা হলো সত্য প্রকাশের দায়িত্ব—কারো প্ররোচনায় বিভ্রান্তি ছড়ানো নয়।”
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে অনুরোধ জানান, সত্যের ভিত্তি নিশ্চিত করে সংবাদ পরিবেশন করার জন্য।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রের মন্তব্য
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, জন্ম নিবন্ধন শাখায় কিছু দালালচক্র সক্রিয় থাকায় বহু কর্মকর্তা কাজ করতে আগ্রহ হারান। সোহেলী নাজনীন সেই পরিবেশ ভেঙে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনার চেষ্টা করায় তিনি দালালচক্রের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন।