টঙ্গীর ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে কথিত মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে স্থানীয়রা।
গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
মোঃ লিমন হাসান।
বউবাজার লাইলির বাড়িকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, টঙ্গী-নরসিংদীতে কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়ার দাবি
স্টাফ রিপোর্টার | গাজীপুর
গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকার লাইলির বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কথিত একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট— এমন অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে একটি চক্র, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কথিত যুবলীগ নেতা রহিমা। তার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তার বোন নাসিমা, আসমা, আকাশ, আলম, শাহীন, মেরাজ, সাইদ আলীর স্ত্রী শান্তা, শিউলি এবং নূরে আলমসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্র শুধু টঙ্গীতেই সীমাবদ্ধ নয়; নরসিংদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়ও তারা মাদক সরবরাহের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের ব্যবসার মাধ্যমে তারা অল্প কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি উঠেছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বাড়তে থাকে। অনেকেই অভিযোগ করেন, প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা হলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“একসময় এলাকাটা শান্ত ছিল। এখন প্রায় প্রতিদিনই সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত দেখা যায়। তরুণদের হাতে হাতে মাদক পৌঁছে যাচ্ছে। পরিবারগুলো আতঙ্কে আছে।”
আরেকজন স্থানীয় ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন,
“মাদক ব্যবসার টাকায় কয়েক বছরে অনেকের জীবনযাত্রায় হঠাৎ পরিবর্তন এসেছে। কেউ নতুন বাড়ি করছে, কেউ জমি কিনছে। অথচ তাদের দৃশ্যমান কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই।”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এই সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার যুব সমাজ ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া অনেক কিশোর-তরুণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও নানা অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চক্রটি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিক প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা বলছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এদিকে এলাকাজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—
অবশেষে কি বন্ধ হবে নূরে আলম ও রহিমা গংয়ের কথিত মাদক সাম্রাজ্য? নাকি প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে আরও বিস্তৃত হবে তাদের নেটওয়ার্ক?
মাদক ব্যবসা, সম্পদের উৎস, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রভাব বিস্তার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।
বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বে।