সংবাদ শিরোনাম :
জারার স্মৃতি বুকে নিয়ে মানবসেবার মাধ্যমে বেঁচে থাকার প্রত্যয় পিতার। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে পানিতে ডুবে ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কলমাকান্দা পোগলা ইউনিয়ন এর মান্দারোয়া বিল, ঘুমাই নদী ও দুগদই খাল উন্মুক্ত করায় খুশি এলাকাবাসী। নারী শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানী ও যৌন হয়রানী’র অভিযোগ আওয়ামী ওলামালীগ নেতার বিরুদ্ধে। কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যা সংকট। নেত্রকোনায় ৮৫ লাখ টাকার টয়লেট উদ্বোধনের আগেই ভেঙ্গে পড়ছে। নেত্রকোনার কৃতি সন্তান মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবনের নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে কলমাকান্দা বাজারে ৩২টি সিসি ক্যামেরার উদ্বোধন ‎কলমাকান্দা সদর পাতিমঞ্জিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ প্রধান শিক্ষকে বিরুদ্ধে।
এরশাদনগরে ভয়ংকর মাদক সাম্রাজ্য ‘সেন্টু সিন্ডিকেট’-এর ছোবলে বিপথে তরুণ সমাজ –পর্ব ২য়!

এরশাদনগরে ভয়ংকর মাদক সাম্রাজ্য ‘সেন্টু সিন্ডিকেট’-এর ছোবলে বিপথে তরুণ সমাজ –পর্ব ২য়!

এরশাদনগরে ভয়ংকর মাদক সাম্রাজ্য ‘সেন্টু সিন্ডিকেট’-এর ছোবলে বিপথে তরুণ সমাজ –পর্ব ২য়

গাজীপুর জেলা স্টাফ রিপোর্টার
মোঃ বিল্লাল হোসেন।

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদনগর ২ নম্বর ব্লকের লালু মিয়ার গলি এলাকায় কথিত ‘সেন্টু সিন্ডিকেট’-কে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্র এলাকার যুব সমাজকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী একটি মহল, যারা বিভিন্ন কৌশলে পুরো নেটওয়ার্ককে সক্রিয় রাখছে।

স্থানীয় সূত্র বলছে, এলাকায় নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে মাদক বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দিনের এক সময় খুচরা বিক্রি, আবার গভীর রাতে চলে বড় চালান আদান-প্রদানের মতো কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, কিশোর ও তরুণদের ব্যবহার করে ‘স্পটভিত্তিক’ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে মূল হোতারা সহজেই আড়ালে থাকতে পারে।আগে ছেলেরা মাঠে খেলাধুলা করত, এখন রাত হলেই সন্দেহজনক আড্ডায় জড়ো হয়। পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় কিছু বেকার তরুণকে সহজ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে। প্রথমে ‘ডেলিভারি’ বা পাহারার কাজ দিলেও পরে তাদের মাদক বিক্রির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অল্প বয়সেই অনেক তরুণ অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও সামাজিক অস্থিরতা। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চলাচলেও তৈরি হয়েছে ভয়ের পরিবেশ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারছে না। তাদের মতে, মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি এলাকায় যখন সহজে মাদক পাওয়া যায়, তখন সেখানে অপরাধ প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব পড়ে শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর। তাই শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং তরুণদের পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ।

এরশাদনগরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে। যারা নীরব, কাল তারাও এই ভয়াবহতার শিকার হতে পারে।”মাদকবিরোধী কার্যকর অভিযান, সামাজিক প্রতিরোধ এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারিই পারে এরশাদনগরকে এই অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে আনতে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Facebook Comments Box





© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫ দেনিক জনতার বার্তা